বিয়ের পর বাবার বাড়ি নয়, শ্বশুরবাড়িই হচ্ছে নববধূর একমাত্র ঠিকানা। সব পিতা-মাতাই তার কন্যাসন্তানকে তুলে দেয় জানা-অজানা অন্য এক পরিবারের হাতে। সেখানেই গড়ে উঠে নববধূর নতুন জীবন সূচনা।
কিন্তু স্বামী ও তার পরিবার যৌতুক লোভী হলে অমানবিক নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করতে হয় নববধূকে।
ঠিক তেমনি নিজ স্বামীর দাবিকৃত দুই লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় বিয়ের ১৩ দিন পর নববধূ নাছিমা আক্তারকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে চলে গেছেন স্বামী জাহাঙ্গীর আলম।।
জানা গেছে, দুই মাস আগে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার আউজিয়া গ্রামের আবদুল কাদিরের পুত্র ইমাম মো. জাহাঙ্গীর আলমের (৩৪) সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আবদুল মালেক মণ্ডলের কন্যা নাছিমা আক্তারের (৩০) বিয়ে হয়। বিবাহের কয়েকদিন কাটে সুখে শান্তিতে।
কিন্তু এরপর থেকেই নাছিমা আক্তারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে যৌতুক লোভী স্বামী। এ ছাড়া যৌতুক না দিলে নাছিমা আক্তারকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে নাছিমা আক্তারকে বাবার বাড়িতে রেখে ইমাম জাহাঙ্গীর আলম চলে যায়।
পরে নাছিমা আক্তার তার স্বামীর বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে চলছে এবং কোনো ধরনের ভরণ-পোষণ করছে না বলে নাছিমা আক্তার জানায়। বর্তমানে পিতৃ-মাতৃহারা নাছিমা আক্তার নিজ পিত্রালয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
বিষয়টি উভয় এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণকে জানানোর পরও এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না। পরে নাছিমা আক্তার ১৯ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ সি.আর আদালত নং-৩-এ যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নাছিমা আক্তারকে তার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে নাছিমা আক্তার জানায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নাছিমা আক্তার।
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাক্কু মিয়া জানান, জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান- নাছিমাকে আক্তারকে নিয়ে তিনি (জাহাঙ্গীর আলম) পুনরায় ঘর-সংসার করছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরে নাছিমা আক্তারকে তার এলাকার জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে ফায়সালা করার জন্য বলি।
এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।









