চীনা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি, দামও কমেছে

0
399

বাজারে পেঁয়াজের দামে স্বস্তি ফেরেনি। চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমলেও দেশি পেঁয়াজের দাম কমেনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখনো বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৩৫ টাকায়। আর পাইকারি আড়তে পণ্যটির দাম পড়ছে ২১০-২২০ টাকা। অন্যদিকে মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়েনি, কমেওনি। শুধু চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ১২০-১৪০ টাকা। এই পেঁয়াজই দুই দিন আগে পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা। আর খুচরায় ১৬০-১৮০ টাকা।

শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি বাড়ায় চীনের পেঁয়াজের দাম কমেছে। তবে দেশি ও অন্যান্য পেঁয়াজের দাম কমেনি। আর শ্যামবাজারে দেশি কোনো পেঁয়াজ কেনাবেচা হচ্ছে না। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা কম। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কম, তাই ক্রেতার আগ্রহ বেশি। আড়তে দেশি পেঁয়াজের জোগান কম।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আড়তে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ খুব কম। আমদানি করা পেঁয়াজ বেশি। মিয়ানমার ও পাকিস্তানের পেঁয়াজও বাজারে কম। চীনের পেঁয়াজে বাজার ভরপুর।

পেঁয়াজের আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মোহাম্মদ মাজেদ বলেন, ‘কয়েক দিন থেকে চীনের পেঁয়াজ আসছে বলে দাম কমেছে। কিন্তু মিয়ানমার ও দেশি পেঁয়াজের সংকট কাটেনি।’

কারওয়ান বাজারে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) কাঁচা মরিচের দাম ১৩০-১৪০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম পড়ে ২৮-৩০ টাকা। কেউ এখান থেকে এক কেজি মরিচ কিনলেও একই দাম পড়ছে। তবে এই পাইকারি বাজার থেকে বেরিয়ে খুচরা বাজারে আসতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। ভোক্তাকে আড়াই শ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনতে হচ্ছে ২০ টাকায়। অর্থাৎ পাইকারি বাজারে তিন কেজি কাঁচা মরিচের দামে খুচরা বাজারে মিলছে এক কেজি। দেখা গেল রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা।

এদিকে শীত মৌসুমের সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও দামে স্বস্তি নেই। কিছু পণ্যের দাম কমতির দিকে থাকলেও ফুলকপি, পাতা কপি, শিম, কাঁচা টমেটো, নতুন আলু ও শালগমের দাম কমেনি। এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না।

রাজধানীর তিনটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামে কোনো পরিবর্তন নেই। আগের মতোই ছোট আকৃতির একটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা। কাঁচা টমেটো ৭০-৮০ টাকা। পাকা টমেটো ৯০-১০০ টাকা। নতুন আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি। শিম প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা।

কাঁচাবাজারের বিক্রেতারা বলছেন, আগের চেয়ে শিম ও কাঁচা টমেটোর দাম কমতির দিকে। তবে অন্য বছর এ সময় দাম আরো কম থাকে। হাতিরপুল কাঁচাবাজারের বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, ‘শীতের সবজি এলেও দাম কমছে না। প্রতিটি ফুলকপি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা যে দামে কিনি, সেই দাম থেকে কিছু মুনাফা করে বিক্রি করছি।’

আড়তে কাঁচা মরিচের দাম কম, কিন্তু খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, কাঁচা মরিচ বেশি কেনা যায় না। ভোক্তাও বেশি কেনে না। কেউ ২৫০ গ্রাম কিংবা আধা কেজি কিনে থাকে। এ জন্য আমরা অল্প কয়েক কেজি কিনে বিক্রি করি। তবে অল্প জিনিস আনতে খরচও বেশি।’

আপনার মন্তব্য জানান