সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় জনস্বার্থ নেই: সুলতানা কামাল

0
361

সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় এখন আর জনস্বার্থ নেই- জনগণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

লেছেন, সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। আবার বৈষম্যের হাত থেকে দলিতদের সুরক্ষা দিতে বৈষম্য বিলোপ আইনটি ছয় বছর ঝুলে আছে। কিন্তু কোনোটিতে সরকারের দৃষ্টি নেই। তাদের ওপর নির্যাতন চলছেই। দখল হচ্ছে ভূমিও। সরকার এসব দেখছে না। সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় এখন আর জনস্বার্থ নেই- জনগণ নেই। থাকলে, আছে অন্য কিছু। সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাগুলো এখন আর বিবেচিত হয় না।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনী মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে ‘দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৯’-এর প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম। সহযোগিতায় ছিল সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম ও হেকস ইপার।

সুলতানা কামাল বলেন, চলতি বছর দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ হয়েছে জমি দখল। আবার জমির কারণে তারা সহিংসতারও শিকার হচ্ছে। নারীরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো সময় পাঁচ মিনিটেই আইন পাস হয়। সেসব আইনে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের অধিকার হরণ হয়। কিন্তু প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনীয় আইন ঝুলে থাকে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বলে পরিচিত এই সরকারের কাছে সবার প্রত্যাশা বেশি।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং মানবাধিকার প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চলতি বছর সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে ৪১টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সুরক্ষায় আইনি কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল।

নিজেরা করি’র নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, দলিত স¤প্রদায়ের মানুষরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার। তারা বিচার পাচ্ছেন না। অনেকে বিচারের জন্য যেতেও পারে না।

দলিত নেত্রী বনানী বিশ্বাস বলেন, সামান্য যে সম্পদ দলিত বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আছে, সেটুকুতেও অনেকের দৃষ্টি। হেকস ইপারের কর্মকর্তা নুরুন নাহার বলেন, দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোর আরও শক্ত ভ‚মিকা থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

আপনার মন্তব্য জানান