ঘুমন্ত মানুষকে নির্যাতন, ফেনী থানার এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

0
364

ঘুমন্ত মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ফেনী মডেল থানার এসআই দুলাল মিয়াসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নাছিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী।

ফেনীর পুলিশ সুপারকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসআই দুলাল মিয়া, ধলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর বেদরাবাদ গ্রামের মো. হাসেমের ছেলে আবু তাহের সেলিম ও মো. হাসেমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নাছিমা।

মামলার বাদী নাছিমা সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের স্বরাজপুর গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী এবং ধলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর বেদরাবাদ গ্রামের মাঝি বাড়ির আবদুর রহিমের কন্যা।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান।

লিখিত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আবু তাহের সেলিম ও মো. হাসেমের সঙ্গে নাছিমার পিতা আদুর রহিমের ১৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ফেনীর দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

ওই জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে বলে নাছিমার পিতাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ১০ ডিসেম্বরের ঘটনা দেখিয়ে ২২ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করেন আবু তাহের সেলিম।

নাছিমা তার পিতার বাড়িতে বেড়াতে গেলে গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এসআই দুলাল মিয়া, আবু তাহের সেলিম ও মো. হাসেমসহ ১৫-২০ জন লোক দলবদ্ধ হয়ে আদুর রহিমের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরজা-জানালা ভাংচুর করে। পরে বাদিনীসহ তার পরিবারের সদস্যরা চোর-ডাকাত বলে চিৎকার করতে থাকে।

হামলাকারীরা দরজা ভেঙে নাছিমার পিতার বসতঘরে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদিনীসহ তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাথাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। আসামিদের পিটুনিতে নাছিমা আক্তার, তার চার বছর বয়সী শিশুপুত্র আরাফাত হোসেন, আবদুর রহিমের ছেলে মো. আনিসুল হক, জিয়াউল হক, মফিজুল হক, জসিম উদ্দিন ও তৌহিদুল ইসলাম সাকিবসহ সাতজন আহত হন।

এ সময় হামলাকারীরা আহতদের ৪টি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা ১৭ হাজার টাকা ও ৫ বস্তা ধান নিয়ে যায়। আহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছিলাম। আদালত বাদিনীর আবেদন আমলে নিয়ে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য জানান