যেসব রাজ্য নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি বা বিরোধিতা করেছে, সেখানে বিকল্প পন্থা অবলম্বন করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তারা ওইসব রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পুরোপরি অনলাইনভিত্তিক করতে পারে। এ খবর দিয়ে অনলাইন জি নিউজ লিখেছে, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে বিরোধিতার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এটি বাস্তবায়নের জন্য অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্রগুলো বলেছে, এমন পরিকল্পনা করছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা মনে করছে, নাগরিকত্বের জন্য বর্তমান প্রক্রিয়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আবেদন করার নিয়ম আছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বাতিল করে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে করার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। এই প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার আরো একধাপ এগিয়ে যেতে চায়। তাতে সব পর্যায়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের অবসানে সক্ষম হবে কেন্দ্রীয় সরকার।
এখানে উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাতিল করার দাবি সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাস করেছে কেরালা বিধানসভা।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সংবিধানের ৭ম শিডিউলের অধীনে ইউনিয়ন লিস্ট হিসেবে নাগরিকত্ব আইন হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারগুলো এই আইন বাস্তবায়ন প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। সিএএ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নির্যাতিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যারা ভারতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন তাদেরকে এই আইনের অধীনে নাগরিকত্ব দেয়া হবে।
কিন্তু কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীরা এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলে দিয়েছেন তাদের রাজ্যে তারা এই আইন বাস্তবায়ন করবেন না। কারণ এই আইনটি ‘অসাংবিধানিক’। তাদের রাজ্যে এই আইনের কোনো স্থান নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আপনাদের (বিজেপি) ম্যানিফেস্টোতে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ইস্যুর পরিবর্তে দেশকে বিভক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হবে? এটা আমি মানবো না। আপনারা লোকসভা এবং রাজ্যসভায় জোর করে আইন পাস করে নিয়েছেন। কারণ, আপনাদের পাস করার মতো সদস্য ছিলেন। কিন্তু আমরা দেশকে ভাগ করতে দেবো না। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, নাগরিকত্ব নির্ধারণের বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করার এক্তিয়ার বা ক্ষমতা নেই কোনো বিধানসভার।









