ইছামতি নদী দখলকারীদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট

0
428

পাবনা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদী দখল ও দূষণকারীদের তালিকা তৈরি করে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসাথে ৮৪ কিলোমিটার ইছামতি নদীকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন কেন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি সিএস পর্চা অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ, দূষণ ও দখলমুক্ত করে দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ভূমি সচিব, পরিবেশ সচিব, পানি সম্পদ সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ইছামতি নদীর দখল, দূষণ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সব প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করে পরিবেশবাদী আইনজীবীদের সংগঠন বেলা। আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন মিনহাজুল হক চৌধুরী, তাকে সহযোগীতা করেন সাঈদ আহমেদ কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পরে সাঈদ আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, পাবনা জেলায় প্রবাহিত ইছামতি নদী এক সময় সচল ছিল। পাবনাবাসীর জন্য এটি ছিল আর্শিবাদ। কিন্তু বর্জ্য ও দূষণে বর্তমানে নদীটি মৃত প্রায়। নদী দখল ও বাঁধ দেয়ায় নদীর মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে নদী রক্ষায় আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছে। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপত্তিস্থলে বাঁধ দেয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ইছামতি নদীর পানির প্রবাহ। এরপর থেকে এ নদীর দুই পাশের নিচু জায়গা ও জলাভূমি বালু দিয়ে ভরাট করতে থাকে অবৈধ দখলদারেরা।

স্থানীয়রা জানান, ইছামতি রক্ষার জন্য তারা নানা সময় মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধ দখল উচ্ছ্বেদের পাশপাশি শিগগিরই তারা নদী খনন কাজে হাত দিতে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য জানান