রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি মুলাদী উপজেলা আওয়ামী-যুবলীগ নেতা-মোঃ সাইফুর রহমান

0
163

 

বরিশাল প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগের মুলাদী থানার একনিষ্ঠ নেতা মোঃ সাইফুর রহমান ছিলেন একজন মানবিক ও জনদরদী মানুষ। সংগঠনের নেতা হিসেবেই নয়, ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সৎ, পরোপকারী এবং সমাজের দরিদ্র-অসহায় মানুষের ভরসাস্থল । তাঁর রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ছিল দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় দেশে থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তার এলাকার মানুষের কাছে তিনি শুধু নেতা নন, ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো। তাকে মানুষ বিপদ আপদে সব সময় পাশে পেয়েছেন।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে আওয়ামী লীগের পতনের পরপরই তার এই স্বপ্ন ভেঙে যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াত ও বিএনপি তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।  প্রতিহিংসার জ্বালায় তার ও পরিবারের অনেক ক্ষতি হয়ছে বলে জানান মোঃ সাইফুর রহমান ।  পরিবারের সদস্যদের উপর ভয়-ভীতি সৃষ্টি করা হয়।  জীবন বাঁচানোই যখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল, তখন তিনি বাধ্য হন প্রথমে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নেয় এবং পরে নিরাপত্তার জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায়। দেশে আসলে তার জীবনের চরম ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান মোঃ সাইফুর রহমান এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেন।

তবে এখানেই শেষ নয়। তিনি দেশত্যাগ করার পরও প্রতিহিংসার শিকার হতে থাকেন। ২০২৫ সালের ১৬ই এপ্রিলের একটি ঘটনার জেরে তার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। যিনি ইতিমধ্যেই দেশে ছিলেন না, তাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় কাল্পনিক অভিযোগ। এটি প্রমাণ করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শেকড় কত গভীরে গেঁথে আছে।

এমন পরিস্থিতি শুধু একজন মানুষের নয়, গোটা জাতির জন্যই লজ্জাজনক। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু প্রতিহিংসার নামে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। প্রশ্ন থেকে যায়—এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শেষ কোথায় ?

আমরা কি আমাদের আগামী প্রজন্মকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ উপহার দিতে পারব না? আমরা কি ভিন্ন মতের মানুষকে সম্মান জানিয়ে রাজনীতি করতে শিখব না ? যদি প্রতিহিংসা, মিথ্যা মামলা আর হুমকি-ধমকি দিয়েই ক্ষমতার রাজনীতি চালু থাকে, তবে জাতি কখনোই প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পাবে না ।

আজ সময় এসেছে নতুন করে ভাবার। প্রতিহিংসা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারকে সামনে রেখে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তাহলেই আমরা আগামী সমাজকে দিতে পারব একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ ।

আপনার মন্তব্য জানান