ফোরকান ভোমরঃ রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে বাড়িভাড়া। ভাড়াটিয়ার কাছে নতুন বছর মানেই ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ আতঙ্ক। মূলত ডিসেম্বর মাস থেকেই ভয়ে ভয়ে থাকেন ভাড়াটিয়া, এই বুঝি বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ এল। হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ার অজুহাতে বছর ঘুরতেই বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য করা হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। নইলে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে একটি আইন থাকলেও বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা তা মেনে চলেন না। সাধারণত, প্রতি বছর জানুয়ারি মাস এলেই ঢাকায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করেন বাড়িওয়ালারা। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন আছে; কিন্তু প্রয়োগ নেই। তাই রাজধানীর ভাড়াটিয়ারা বছর বছর ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই রাজধানীতে মাত্র এক মাসের নোটিশে তাদের ভাড়া বাড়ানো হয়। এক মাসের নোটিশে বাসা ছেড়ে দিতে হয়- আর তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে বাড়ির মালিকের মেজাজ-মর্জির ওপর। কত টাকা ভাড়া বাড়বে সেটাও ভাড়াটিয়ার আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে মালিকের ইচ্ছার ওপর। ভাড়াবৃদ্ধির এ অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করা অথবা প্রতি বছর বাসা পাল্টানো ছাড়া ভাড়াটিয়াদের আর কিছু করার নেই। বাসা বদলিয়েই বা লাভ কোথায়? ভাড়া বাড়ে সবখানেই। একটু কম ভাড়ায় বাসা পেতে হলে যেতে হবে নগরীর আশেপাশে দূরে কোথাও।
কিন্তু বাড়িভাড়া আইন ১৯৯১ অনুযায়ী দুই বছরের আগে কোনোভাবেই বাড়ির মালিক ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারেন না। আইনে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাড়িওয়ালারা তা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো ভাড়া আরোপ করে থাকেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪শ’ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২শ’ শতাংশ। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে রাজধানীতে বসবাসকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগেরও বেশি মানুষ ভাড়া বাসায় থাকেন। বাড়িভাড়ার হিসেব মিলিয়েই তাদের জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়। ১৫ ভাগ বাড়িওয়ালাদের কাছে নগরীর কোটি মানুষ বড় অসহায়। মোদ্দাকথা ১৫ ভাগ বাড়িওয়ালার কাছে নগরীর ৮০ ভাগ মানুষ জিম্মি।
বছরের পর বছর ধরে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ফলে ভাড়াটিয়াদের দুর্গতির শেষ নেই। কিছু দিন আগে রাজধানী ঢাকায় ভাড়া বৃদ্ধির একটা জরিপ চালানো হয়েছিল। জরিপে জানা যায়, রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের উপার্জনের ৬০ ভাগ ব্যয় হয় বাড়িভাড়ায়। বাকি ৪০ ভাগ দিয়ে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাদের।
সরকারি চাকরিজীবী সফিক আহম্মেদ বলেন, আমার মত একজন সাধারণ মানুষ প্রায় ২৪ হাজার টাকা পাই। যার মধ্যে বাসা ভাড়া ১১ হাজার আর গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল মিলে ১১ হাজার টাকা পড়ে। বাকি ১৩ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। যার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, চিকিৎসা সবই করতে হয়। সরকারের উচিত এ বিশাল সংখ্যক মানুষের কথা বিবেচনা করে বাসা ভাড়া আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা।









