‘ভারতে জাতিগতভাবে মুসলিমদের নির্মূল করার অপচেষ্টা চলছে’

0
436

ভারতে মুসলিম জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিনাশ করার মাধ্যমে মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

তিনি বলেন, ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে ‘নাগরিকত্ব সংশোধন বিল’- সিএবি তারই অন্যতম পদক্ষেপ। বাবরি মসজিদের রায়, এনআরসি, কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিল, তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, অভিন্ন দেওয়ানি আইন প্রবর্তনের অপচেষ্টা এসব একই সূত্রে গাঁথা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মুসলিম নিধনে বিজেপি সরকার ‘স্পেন মডেল’ অনুসরণ করতে চায়।

শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মাসউদ বলেন, বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের এবং তাদের নরক যন্ত্রণার যে কথা বলেছেন, তা সর্বৈব মিথ্যা। সংখ্যালঘু নির্যাতন, জাতিগত দাঙ্গা ও বর্ণভেদ ভারতীয় সমাজের বৈশিষ্ট্য। ভারত যেখানে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদেরকেই বিভিন্ন জাত-পাতে বিভক্ত করে রাখে এবং সব সময় নিন্ম শ্রেণির হিন্দুদের মানসিক নির্যাতন সইতে হয়, সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কেমন অস্থিরতা, সন্দেহ ও ভীতিকর পরিবেশে থাকতে হয় তা সহজে অনুমেয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশ সম্প্রদায় সম্প্রীতির জন্য বিশ্বে অনন্য। এদেশে অন্য ধর্মাবলম্বীরা শুধু নিরাপত্তা এবং সমতাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভোগ করে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান বলেই তা সম্ভব হয়েছে। ভারতের মনে রাখা উচিত, ভারতের মুসলমানরা মুসলিম উম্মাহর অংশ এবং বিশ্ব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ নয়।

নগর উত্তর সভাপতি আরও বলেন, সরকার ‘ভারত-বাংলাদেশ’ সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চলছে বললেও ভারতের একের পর এক বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপে দেশবাসী উদ্বিগ্ন। স্রোতের গতিপথ তৈরি হলে স্রোতকে থামিয়ে রাখা যায় না। সুতরাং সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

এদিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ওয়ার্ড প্রতিনিধি সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সভায় নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা আরীফুল ইসলামসহ নগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য জানান