টানা তিন মাস দেশবাসীকে কাঁদিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে কিছুটা কমে আসছিল পেঁয়াজের দাম। মওসুম শুরু হওয়ায় দাম এখন নি¤œমুখী হওয়ারই কথা। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ আবার অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। দুই দিন আগের চেয়ে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে গতকাল সকালে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল দেশী নতুন পেঁয়াজ। দুপুরের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এক লাফে ২০০ টাকায় ওঠে হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা পণ্যটির দাম। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পেঁয়াজের উৎপাদন ও আমদানি নিয়ে গত কয়েক দিনে মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বাজরের অস্থিরতার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন করে বেড়েছে সয়াবিন তেল, আদা, রসুন ও চিনিসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম। অন্য দিকে শীতের এই ভরা মওসুমেও বাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিক।
রাজধানীর খিলগাঁও আনসার কোয়ার্টার এলাকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নজরুল। ভ্যানে পেঁয়াজের পাশাপাশি আদা, রসুন ও আলু বিক্রি করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দেশী নতুন পেঁয়াজ ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। নজরুল জানান, আগের দিন এ পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা কম দরে বিক্রি করেছিলেন তিনি। কিন্তুপাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু দুপুরের পর একই ভ্যানওয়ালার কাছে গিয়ে দেখা যায়, দেশী নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে নজরুলের দাবি, পাইকারি দোকান থেকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে যে, বাজারে দাম বেড়ে গেছে। তাই বাড়িয়ে বিক্রি করতে হবে। একই দামে কেনা পেঁয়াজ সকালের চেয়ে বিকেলে কেজিতে ৬০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা নজরুল বলেন, দাম হঠাৎ কমে গেলে তো আমাদের কেনা দামের চেয়ে কম দামে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়। তিনি জানান, সামনের দিনগুলোতে দাম আরো বাড়বে বলে পাইকাররা জানিয়েছেন।








