নিউজ ডেস্কঃ সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মোঃ ইমদাদুল হক ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত রক্তদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ তম বার লাল ভালোবাসা দান করলেন দেশের বাইরে সূদুর ফিনল্যান্ডে। ইমদাদুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন আর্তনাদ ফাউন্ডেশনে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে অবদান রেখে চলছে।
উল্লেখ্য, রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধি এবং রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৩ সালের ১ জুন বরিশালের অদম্য তরুন ফোরকান মাহমুদের হাত ধরে মাত্র ৪০ জন সদস্য নিয়ে আর্তনাদ নামের সংগঠন যাত্রা শুরু করে।
ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য রক্তদানে সক্ষম প্রতিটি মানুষকে রক্তদানে উৎসাহ প্রদান ও উদ্বুদ্ধকরণ। বর্তমানে ২৮টি জেলা, ৪৩ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মুমূর্ষেুর জন্য সরবরাহ করছে বছরের প্রয়োজনীয় রক্তের চাহিদার সিংহভাগ, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে সকল মানুষকে তার নিজ রক্তের গ্রুপ। সূদীর্ঘ ৯ বছরের এই স্বপ্নযাত্রায় আর্তনাদ ৩০ হাজারের অধিক মানুষকে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দিয়েছে ও রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং ১০ হাজারের অধিক ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে।
ইমদাদুল বলেন, পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তি, সংঘাত আর বিদ্বেষের বাষ্প, ঠিক তখনই আমরা পারি পৃথিবীতে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়ে এক স্বগীর্য় পরিবেশ তৈরি করতে। সামাজিক বন্ধন যেখানে প্রায় ভঙ্গুর, সেখানেই হোক আমাদের ভঙ্গুরতাকে ভালোবাসায় জুড়ে দেয়ার এক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। আপনার এক একটি ভালো কাজ এবং এক একটি মহৎ উদ্দ্যোগ পারে একটি সমাজের কল্যাণ সাধনে কাজ করে যেতে। এরূপ একটি কল্যাণকর কাজ হলো ‘রক্তদান’। আমরা জানি, ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। রক্তদান এমনই একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অর্থ ছাড়াই শারীরিকভাবে সুস্থ একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি পারেন পরম সুখের অধিকারী হতে। তবে এ জন্য প্রয়োজন হবে, তার স্বইচ্ছা।
রক্তদান সম্পর্কে ইমদাদুল হক আরো বলেন- একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে জীবন ও জগতের উন্নতি হওয়া সত্বেও রক্তের কোন বিকল্প আবিস্কার হয়নি। রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত যা টাকার পরিমাপে মূল্যায়ন অসম্ভব। প্রতিনিয়ত রক্তের অভাবে ঝরে যায় হাজারো প্রাণ। কিন্তু সামাজিকভাবে পশ্চাদপদ বাংলাদেশের সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। এর কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা রক্তদান সম্পর্কে সচেতন নই, রক্তদানের কথা শুনলে আমরা ভয় পাই। কিন্ত আমরা যদি রক্তদান সম্পর্কে জানতে পারি, নিজেকে সচেতন করতে পারি তাহলে রক্তদান সম্পর্কে ভয়টাকেও আমরা জয় করতে পারি। কারণ ১৮-৫৭ বছরের সকল নারী ও পুরুষ শারিরীকভাবে সুস্থ্য থাকলে ১২০ দিন পর পর এক ব্যাগ রক্ত দান করতে পারে।
কেন স্বেচ্ছায় রক্তদান করবেন: আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০/১২ লক্ষ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। আর এই প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ হয় খুবই সামান্য। আর যতটুকু সরবরাহের ব্যাবস্থা হয় তার ৬০ ভাগই পুরণ হয় পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে। পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে রক্ত গ্রহণ একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ অন্যদিকে তেমনি অসাস্থ্যকর। কারণ পেশাদার রক্তদাতারা গ্রহণ করে বিভিন্ন ড্রাগ এবং শরীরে বহন করে হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইডস, সিফিলিস এর মত জীবন ধ্বংশকারী রোগের জীবাণু। যে কারণে আমাদের দেশে রক্তের অভাবে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রোগী মৃত্যুবরণ করে। একবার ভেবে দেখুন আজ যে রোগীটা মারা যাচ্ছে সে যদি আমার মা হত বা বাবা হত তাহলে……
রক্তদানের যোগ্যতা: ১. বয়স ১৮ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে হতে হবে (নারী ও পুরুষ)। ২. ওজন ৪৮ কেজি (পুরুষ) ৪৫ কেজি (নারী)। ৩. সময় ১২০ দিন পর পর অর্থ্যাৎ ৪ মাস পর পর। ৪. শারিরীকভাবে সুস্থ্য থাকতে হবে।
রক্তদান সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত কিছু ভূল ধারণা: রক্তদান করলে শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হওয়া, শরীর মুটিয়ে যাওয়া, শরীর শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের ভূল ধারণা মানুষের মধ্যে কাজ করে, যার পুরোটাই আমাদের রক্তদান সম্পর্কে অসচেতনতা ও ভয় থেকে সৃষ্টি। রক্তদান করলে শারিরীকভাবে কোন সমস্যার সৃষ্টি বা অসুস্থ্য হওয়া এর কোনটাই হয় না। বরং রক্তদান করলে শারিরীকভাবে বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়, মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায় যা অন্য কোন ভাবে মানুষের উপকারের মাধ্যমে অর্জণ সম্ভন নয়।
রক্তদানের উপকারিতা: ১. প্রতি চার মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে রক্ত কণিকা সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ২. নিয়মিত রক্তদানে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। ৩. নিয়মিত রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। (বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতামত ১-৩) ৪. রক্তদানে কোন ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই। ৫. রক্তদানের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিভিন্ন রোগের রিপোর্ট পেতে পারেন (হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইডস, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া) যা আপনাকে শারিরীক সুস্থ্যতার ব্যাপারে সচেতন রাখবে।
ইমদাদুল এর এই মহৎ প্রয়াসকে সফল করার জন্য সকল বন্ধু, সম্মানিত রক্তদাতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের নিকট বিনীত আবেদন, এ পেজের সাথে যুক্ত থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিনত করতে সহায়তা করুন।









