দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে শাবার লেদারের চামড়াজাত পন্য

0
974

ফোরকান মাহমুদঃ শিক্ষাকতা ছেড়ে নিজের জমানো অর্থ ও গহনা বিক্রির টাকা দিয়ে ২০১৬ সালে ব্যবসা শুরু করেন ঢাকার মেয়ে মাকসুদা খাতুন। তার ‘শাবাব লেদার’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথমে পাঁচজন শ্রমিক থাকলেও বর্তমানে কাজ করছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। শুরুতে দুটি মডেলের চামড়ার লং জেন্টস ওয়ালেট বানালেও বর্তমানে তার ফ্যাক্টরিতে তৈরি হচ্ছে এক্সিকিউটিভ ব্যাগ, এক্সিকিউটিভ ফাইল, লেডিস ব্যাগ, মেসেঞ্জার ব্যাগ, লেডিস পার্স, ব্যাকপ্যাক, বেল্ট, মাউস প্যাড, চাবির রিং, করপোরেট গিফট আইটেম, পেন হোল্ডার, পেন স্ট্যান্ড, ডায়েরি কভার, জ্যাকেটসহ যাবতীয় চামড়াজাত পণ্য।

শাবাব লেদারের নির্বাহী সোয়েব হোসেন শুভ জানান, বর্তমানে সুইজারল্যান্ড, ইতালি, গ্রিসসহ আট দেশে আমাদের পণ্য যায়। নিজেরা তৈরির পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট লাগেজ, কারুপণ্যসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। এছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট দিচ্ছি। করোনা-পরবর্তী সময়ে আমরা অনলাইনে ব্যাপক রেসপন্স পেয়েছি। দারাজ, দেশিবেশিসহ বেশকিছু ই-কমার্স প্লাটফর্মে আমাদের পণ্য পাওয়া যায়।

দেশে করোনাভাইরাস বিস্তারের কারণে থমকে গেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানো এসব উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে নীতি নির্ধারকদের। প্রয়োজন মতো সরবরাহ করতে হবে সহজ শর্তের ঋণ।

শাবাব লেদারের উদ্যোক্তা মাকসুদা খাতুন বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে তার প্রতিষ্ঠান নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পণ্য সরবরাহ জনিত সমস্যা। তিনি বলেন, বর্তমানে অর্ডার পাওয়ার চেয়ে তা পৌঁছে দেওয়া আরো বেশি কঠিন। এ ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে তিনি পার্সোনাল ডেলিভারি ম্যানও রেখেছেন বলে জানান। এছাড়াও করোনা ভাইরাসের কারণে যে শোরুমগুলোতে মাল দিতাম সেগুলো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কবে থেকে দেশ আবার স্বাভাবিক হবে সেটা বুঝতে পারছি না। তাই সেখানে থেকে কোন টাকাও পাচ্ছি না। যার কারণে আমরা সার্বিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

করোনার সংকটকালেও অভ্যন্তরীণ বাজারকে সচল রাখতে বিপণন কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনলাইন ভিত্তিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরদেয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মন্তব্য জানান