ফোরকান মাহমুদ, তাম্পেরে, ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ড, “হাজার হৃদের দেশ” হিসেবে পরিচিত, ইউরোপের উত্তরের এক অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ। দেশের নানান প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, সবুজ অরণ্য, অপূর্ব হ্রদ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এটিকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি, যা দেশের বৃহত্তম শহর এবং একটি বিশ্বমানের শহর হিসেবে পরিচিত। ফিনল্যান্ড বর্তমানে বিশ্বে উচ্চশিক্ষা আকাঙ্ক্ষীদের জন্য একটি স্বপ্নের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, এবং এর অন্যতম কারণ দেশটির উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, বৈষম্যহীন সমাজ, এবং গত সাত বছর ধরে টানা বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের মর্যাদা লাভ ।
বিশেষভাবে, ফিনল্যান্ড বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা যারা ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডক্টরেট এবং পোস্ট-ডক্টরেট ডিগ্রি নিতে আসছেন। এমনকি, এবছর ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা একটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা ও আকর্ষণের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের কোনো দূতাবাস না থাকায়, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ফিনল্যান্ডের আবাসিক ভিসার জন্য ভারতে দিল্লির ফিনল্যান্ড ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (VFS Global) গিয়ে আবেদন করতে হয়। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের ভিসা কার্যক্রমও সীমিত আকারে চলছে, যা বেশ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে তা পুনরায় চালু হলেও, এখনও শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রসেসিং একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এই সমস্যার সমাধানে গত বৃহস্পতিবার, ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশের কমিউনিটি প্রতিনিধিরা তাদের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সুপারিশ করেন। উক্ত সভায় ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং আত্তে কালেভা এমপি বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দূতাবাস স্থাপন এবং ভিসা সম্পর্কিত সমস্যাগুলির সমাধান দ্রুততর করার দাবি জানানো হয়। সভায় বাংলাদেশের কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এন. জামান ভূইয়া, তসলিমা আক্তার জামান, ফোরকান মাহমুদ, ইমাম হোসেন এবং কাজিম উদ্দিন।
ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ভিল্লে অ্যান্ডারসন, সভায় জানিয়েছেন যে তারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দাবির ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন এবং দূতাবাস স্থাপনের বিষয়ে যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, ফিনল্যান্ডের প্রোজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট আলেক্সি ইয়ারভিনেন সরাসরি বাংলাদেশে এসে এই সমস্যার সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধু ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে না, বরং ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথকে আরও উন্মুক্ত করবে। এই পদক্ষেপগুলি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং ফিনল্যান্ডকে তাদের ভবিষ্যতের জন্য আরও আকর্ষণীয় একটি গন্তব্যে পরিণত করবে।









