মরণোত্তর চক্ষুদানে অনলাইন রেজিষ্টেশন করলেন তরুণ উদ্যক্তা ও সমাজ কর্মী ইঞ্জি ফোরকান মাহমুদ।
ফোরকান জনতার কণ্ঠস্বরকে বলেন , ‘আমি নিয়মিত রক্ত দিই। একদিন ভাবলাম, মৃত্যুর পর আমার চোখ তো আর কোনো কাজে আসবে না; বরং দান করলে কারও উপকার হবে। কেউ চোখে দেখতে পারবে। মানবিক চিন্তা থেকে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মরণোত্তর চক্ষুদানের ব্যাপারে দেশের অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণেরা বেশি অঙ্গীকার করছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ মরণোত্তর দেহদানেরও অঙ্গীকার করছেন।
কীভাবে মরণোত্তর চক্ষুদান করবেন :
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী বেশ অনেকদিন থেকেই মরণোত্তর চক্ষুদান বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের উদ্যোগেই প্রতিবছর ২ নভেম্বর আমাদের দেশে মরণোত্তর চক্ষুদান দিবসও পালন করা হয়। সন্ধানী আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংক বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ডোনারের মুখের সৌন্দর্যহানি না ঘটিয়ে সম্পূর্ণ চোখ তোলার পরিবর্তে শুধু কর্ণিয়া সংগ্রহ করে থাকে।
কেউ চক্ষুদান বিষয়ে আগ্রহী হলে প্রথমে তাকে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির দেয়া অঙ্গীকারপত্র সংগ্রহ করতে হয়। তারপর তা যথাযথভাবে পূরণ করে সন্ধানী চক্ষু ব্যাংকের ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
এরপর ডোনারকে চক্ষু ব্যাংক থেকে একটি ডোনার কার্ড সরবরাহ করা হয়।
এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বলার প্রয়োজন যে, সংশ্লিস্ট ডোনারকে মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ সন্ধানী ইউনিট অথবা সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিতে খবর পাঠাতে হবে।
চক্ষুদান বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ :
আমাদের দেশে এখনও অনেকে চক্ষুদান বিষয়ে নানান দ্বিধা-দ্বন্দে ভোগেন। এর মূল কারণ হিসেবে মনোবীদরা চিহ্নিত করেছেন সচেতনতার অভাব, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা ও আইনি জটিলতাকে।
এছাড়া অনেকে কেবলমাত্র মৃতদেহের অঙ্গহানির ভয়েই চক্ষুদান থেকে বিরত থাকেন। তাই বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় কর্ণিয়া প্রাপ্তির সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। এজন্য এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উপর জোর দিয়েছেন তারা।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে চক্ষুদান :
আমাদের দেশে অনেকেই কেবলমাত্র ধর্মীয় বিধি নিষেধের ভয়ে ইচ্ছে স্বত্ত্বেও চক্ষুদানে আগ্রহী হন না। অথচ পৃথিবীতে প্রচলিত কোন ধর্মেই এ বিষেয়ে কোনো ধরনের বিধি নিষেধ পাওয়া যায়নি। বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থগুলোতে চক্ষুদানের ব্যাপারে কোন ধরনের বিধি নিষেধ পাওয়া যায়নি। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ও চক্ষুদানে কোন বাধা নেই।
এ সম্পর্কে মক্কাভিত্তিক ইসলামি ফিকাহ্ একাডেমি বলেছে, মরণোত্তর অঙ্গব্যবচ্ছেদ বা সংস্থাপন শরিয়তবিরোধী নয়। এছাড়া মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতরাও চক্ষুদানকে মানবসেবা নামে অভিহিত করেছেন।
তাদের মতে যেহেতু ইসলাম মানবসেবাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তাই মানুষের কল্যাণে মরণোত্তর চক্ষুদান ইসলামবিরোধী হতে পারে না। ওআইসি পর্যন্ত মরণোত্তর চক্ষুদানকে অনুমোদন দিয়েছে।
সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা :
সার্বিক আলোচনায় দেখা যায় যে, মরণোত্তর চক্ষুদান একটি মহৎ সেবা। এই সেবাকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে যেমন প্রয়োজন সচেতনতা তেমন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে সচেতন করতে হবে। তাহলে অন্ধ ফিরে পাবে দৃষ্টি।
আপনার মহত্ব দৃষ্টিহীনকে দেবে আলোর দিশারী। আসুন আজই আমরা এ পথের পাথেয় হই।









