সাজ্জাতুর রহমান শিমুলঃ আজ শুক্রবার বিকাল ২ ঘটিকা থেকে রাজধানী ঢাকার রমনা পার্কে ব্লাড ব্যাংক ঢাকা এর প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়। রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৮ সালের ১ অক্টবর রাজধানী ঢাকায় মাত্র ১০ জন সদস্য নিয়ে রক্তদানের অন লাইন প্লাটফর্ম ব্লাড ব্যাংক ঢাকা সংগঠন এর যাত্রা শুরু হয়।
রক্তদানের মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। রক্তদান করা মানে মানুষের বিপদে পাশে এগিয়ে যাওয়া। রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মানবিক অনুভূতি জাগ্রত হয়। এক ব্যাগ রক্ত হাসি ফোটাতে পারে একজন মায়ের, একজন বাবার, একজন স্ত্রীর, একজন সন্তানের। একটি পরিবারের আয় উপার্জনের বাহক মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিটিও বেঁচে গিয়ে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারে নিজের পরিবারকে- প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ব্লাড ব্যাংক ঢাকা সম্পর্কে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম দুর্জয় জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য রক্তদানে সক্ষম প্রতিটি মানুষকে রক্তদানে উৎসাহ প্রদান ও উদ্বুদ্ধকরণ। বর্তমানে তাদের টিম ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাবনা, নওগাঁ, চাঁদপুর জেলায় কাজ করছে। রক্তদান ছাড়াও তারা বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, অসহায়দের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরন, শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন, ক্ষুধার্তদের মাঝে খাবার বিতরন করে আসছে। শুরুতে ১০ জন সদস্য নিয়ে পথ চলা শুরু হলেও বর্তমানে তাদের অন লাইন সদস্য সংখ্যা পাঁচ হাজারের অধিক।
উক্ত প্রোগ্রামে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাংকের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ইঞ্জি. ফোরকান মাহমুদ জানান, পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তি, সংঘাত আর বিদ্বেষের বাষ্প, ঠিক তখনই আমরা পারি পৃথিবীতে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়ে এক স্বগীর্য় পরিবেশ তৈরি করতে। সামাজিক বন্ধন যেখানে প্রায় ভঙ্গুর, সেখানেই হোক আমাদের ভঙ্গুরতাকে ভালোবাসায় জুড়ে দেয়ার এক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। আপনার এক একটি ভালো কাজ এবং এক একটি মহৎ উদ্দ্যোগ পারে একটি সমাজের কল্যাণ সাধনে কাজ করে যেতে। এরূপ একটি কল্যাণকর কাজ হলো ‘রক্তদান’। আমরা জানি, ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। রক্তদান এমনই একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অর্থ ছাড়াই শারীরিকভাবে সুস্থ একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি পারেন পরম সুখের অধিকারী হতে। তবে এ জন্য প্রয়োজন হবে, তার স্বইচ্ছা।
রক্তদান সম্পর্কে সুপার ডোনার সাজ্জাদ হোসেন বলেন– একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে জীবন ও জগতের উন্নতি হওয়া সত্বেও রক্তের কোন বিকল্প আবিস্কার হয়নি। রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত যা টাকার পরিমাপে মূল্যায়ন অসম্ভব। প্রতিনিয়ত রক্তের অভাবে ঝরে যায় হাজারো প্রাণ। কিন্তু সামাজিকভাবে পশ্চাদপদ বাংলাদেশের সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। এর কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা রক্তদান সম্পর্কে সচেতন নই, রক্তদানের কথা শুনলে আমরা ভয় পাই। কিন্ত আমরা যদি রক্তদান সম্পর্কে জানতে পারি, নিজেকে সচেতন করতে পারি তাহলে রক্তদান সম্পর্কে ভয়টাকেও আমরা জয় করতে পারি। কারণ ১৮-৫৭ বছরের সকল নারী ও পুরুষ শারিরীকভাবে সুস্থ্য থাকলে ১২০ দিন পর পর এক ব্যাগ রক্ত দান করতে পারে।
রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কে সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু জানান, আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০/১২ লক্ষ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। আর এই প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ হয় খুবই সামান্য। প্রয়োজনীয় রক্তের ৬০ ভাগই পুরণ হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে। রক্তদানের উপকারিতা সমুহ ১. প্রতি চার মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে রক্ত কণিকা সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ২. নিয়মিত রক্তদানে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। ৩. নিয়মিত রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। (বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতামত ১-৩) ৪. রক্তদানে কোন ধর্মীয় বিধিনিষেধ নেই। ৫. রক্তদানের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিভিন্ন রোগের রিপোর্ট পেতে পারেন (হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইডস, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া) যা আপনাকে শারিরীক সুস্থ্যতার ব্যাপারে সচেতন রাখবে।
প্রোগ্রাম শেষে সংগঠনের সেরা স্বেচ্ছাসেবী, তরুণ ও পরিশ্রমি সেচ্ছাসেবী এবং সুপার ডোনারদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।









