বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফল তরুন উদ্যক্তা হিমু হৃদয়

0
726
প্রতিবেদকের সাথে সফল তরুন উদ্যক্তা হিমু হৃদয়

ফোরকান মাহমুদঃ বরিশালের মুলাদি উপজেলায় কলেজ ছাত্র হিমু হৃদয় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করে সফলতা অর্জন করেছে। বাড়ির আঙিনায় বৃত্তাকারে রড ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ত্রিপল বিছিয়ে জুন মাস থেকে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে দুটি ট্যাঙ্কি তৈরি করে স্থানীয় জাতের শিং, কৈ, মাগুর, পাবদা, সিলন ও ট্যাংরা জাতের মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। হিমু হৃদয় বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে বরিশাল ল’ কলেজে অধ্যায়নরত আছেন।

সফল উদ্যোক্তা হিমু হৃদয় বলেন, গত ছয় মাস পূর্বে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খাঁচায় মাছ চাষের বায়োফ্লক পদ্ধতি দেখে দেশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানেই সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন হিমু হৃদয়। বর্তমানে অনেক বেকার যুবক হৃদয়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে খাঁচায় মাছ চাষ (বায়োফ্লক) শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে তরুন উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকারীভাবে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে দেশীয় মাছ চাষ করে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

মাছ চাষের পদ্ধতি হিসেবে হিমু হৃদয় জানান, আঙিনায় নিজস্ব অর্থায়নে ১৩ ফুট বৃত্তাকারে ভেতরের মাপ রেখে বাইরে বৃত্তাকারে রড ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। এর মধ্যে ত্রিপল বিছিয়ে নিজস্ব পুকুর থেকে ১০ হাজার লিটার পানি দিয়ে মাছ চাষের ক্ষেত্র তৈরি করে চুন ছিটিয়ে পানিকে জীবাণুমুক্ত করা হয়। আবদ্ধ স্থানে মাছের অক্সিজেন সংকট পড়তে পারে এ জন্য সেখানে কৃত্রিম অক্সিজেনেরও ব্যবস্থা করা হয়।

বয়োফ্লোক পদ্ধতি সম্পর্কে হিমু হৃদয় বলেন, পতিত কিংবা খোলা জায়গায় ৩৫ ফুট লম্বা রড ছয় থেকে সাত ইঞ্চি পরপর ঝালাই করে সাড়ে তিন ফুট উঁচু এবং ১০ ফুট গোলাকৃতির একটি খাঁচা তৈরি করতে হয়। পরে ওই খাঁচা একটি ওয়াটার প্রুফ ত্রিপল দিয়ে ভালো করে আটকাতে হয়, যাতে কোনোভাবে খাঁচার পানি বাহিরে বের হতে না পারে। খাঁচার নিচের দিকে ছিদ্র করে পানি প্রবেশ ও বের করার জন্য লোহা বা প্লাস্টিকের একটি পাইপ এবং সুইচ সংযুক্ত করা হয়েছে। পরে মোটর দিয়ে খাঁচায় প্রয়োজনীয় পানি ও অক্সিজেনসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়ার পর সেখানে মাছ চাষ করতে হয়।

মাছ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে হিমু হৃদয় বলেন, মাছ চাষের আগে প্রতিটি খাঁচায় চুন, লবণ, চিটাগুড় ও প্রবাইটিক দিয়ে সাত দিন পর্যন্ত পানির কালচার (মিশ্রণ) করতে হয়। এরপর খাঁচায় স্থানীয় জাতের শিং, কৈ, মাগুর, পাবদা, সিলন ও ট্যাংরা মাছ চাষ করা যায়। প্রতিটি খাঁচার মধ্যে মাছের সাইজ অনুযায়ী পরিমিত খাবার দিতে হয়। প্রতি তিন থেকে চার মাস পর একটি খাঁচায় সাত থেকে আটমণ মাছ উৎপাদন করা যায়। যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, একটি খাঁচায় বছরে দুই থেকে তিনবার মাছ চাষ করা সম্ভব। এতে মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভও বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবার কম লাগে এবং অসুখ না হওয়ায় চাষীকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়না।

 

আপনার মন্তব্য জানান